যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইরানের নেতৃত্বের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে। তবে ইরান বলছে, তারা এখনো এমন কোনো চিঠি পায়নি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের দূতাবাসের মুখপাত্র জানান, “আমরা এখনো কোনো চিঠি পাইনি।” ট্রাম্পের দাবির পরদিনই ইরানের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য আসে।
ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে, তবে কোনো আলোচনায় বসা সম্ভব নয়। যত দিন তারা ‘সর্বোচ্চ চাপের’ নীতি বজায় রাখবে, তত দিন আমরা সংলাপ থেকে দূরে থাকব।”
ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যার মধ্যে দেশটির তেল খাতও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, এটি ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের’ কৌশল।
তেহরানের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিক্রিয়া নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এর আগে, ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গোপনে খামেনিকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি চিঠি লিখেছি, কারণ আমি চাই, তারা আলোচনা করুক। না হলে, সামরিক পদক্ষেপ ভয়ংকর হতে পারে।”
তবে ট্রাম্প চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অন্যদিকে ইরান এখনও বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে বাধা দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও কঠোর হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি শুরু না করলেও, তাদের বর্তমান পদক্ষেপ ভবিষ্যতে পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “আমি একটি চুক্তি করতে চাই, যা সামরিক জয়ের সমান হবে। কিন্তু সময় ফুরিয়ে আসছে। কিছু একটা ঘটবে, যেকোনোভাবে।”